tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদসারাদেশআজ থেকে আট আইনে সরাসরি মামলা গ্রহণ করবে না আদালত

আজ থেকে আট আইনে সরাসরি মামলা গ্রহণ করবে না আদালত

সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরসহ দেশের ১২টি জেলায় আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে আটটি নির্দিষ্ট আইনের অধীনে সরাসরি মামলা গ্রহণ বন্ধ করেছে আদালত। এসব আইনের অধীনে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই নতুন বিধানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।

কোন কোন আইনে মামলা সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয়?

সংশোধিত আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (৩৫ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী, এখন থেকে নিম্নোক্ত আটটি আইনের অধীনে উদ্ভূত বিরোধে আদালতে সরাসরি মামলা করা যাবে না:

  1. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ – (ধারা ৫ অনুযায়ী)
  2. বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১
  3. সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন বিষয়ক বিরোধ
  4. স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ট্যানেন্সি অ্যাক্ট, ১৯৫০ – (সেকশন ৯৬ অনুযায়ী অগ্রক্রয় সংক্রান্ত বিরোধ)
  5. নন-এগ্রিকালচারাল ট্যানেন্সি অ্যাক্ট, ১৯৪৯ – (সেকশন ২৪ অনুযায়ী অগ্রক্রয় সংক্রান্ত বিরোধ)
  6. পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ – (ধারা ৮ অনুযায়ী)
  7. যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ – (ধারা ৩ ও ৪ অনুযায়ী)
  8. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ – (ধারা ১১(গ) অনুযায়ী যৌতুকের জন্য নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ)

এই বিধানের আওতায় সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রাঙামাটি জেলাগুলো রয়েছে।

মধ্যস্থতার বৈধতা ও কার্যকারিতা

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আদালতে যাওয়ার আগে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) কর্তৃক প্রত্যায়িত প্রত্যেকটি মধ্যস্থতা চুক্তি চূড়ান্ত, বলবৎযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এটি আদালতের ডিক্রি বা ক্ষেত্রমতো চূড়ান্ত আদেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ন্যায়বিচারে নতুন দিগন্ত

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা যে পরিবর্তন এনেছি, যদি ভবিষ্যতের সরকার এটিকে টিকিয়ে রাখতে পারে, তাহলে দেশের ন্যায়বিচারে বড় পরিবর্তন আসবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ বহুগুণে বাড়বে।”

তিনি আরও জানান:

  • সিভিল ও ক্রিমিনাল আদালতের পৃথকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে যাতে সিভিল মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হয়।
  • বিচারিক পদ সৃজনের ক্ষমতা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরিয়ে প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

ড. নজরুল বলেন, “আমরা কয়েকটি নতুন পরিবর্তন এনেছি—

  1. মামলা করার আগে লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  2. নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনে মধ্যস্থতা ছাড়া মামলা গ্রহণযোগ্য নয়
  3. আগে যেখানে একজন সিনিয়র সহকারী জজ দায়িত্বে থাকতেন, এখন সেখানে থাকছেন সিনিয়র যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ।”

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের যুক্ত করা হয়েছে কারণ তারা অভিজ্ঞ, সম্মানীয় এবং শারীরিকভাবে সক্রিয়। এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।