চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চমক দত্ত এবং একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত দেব। দুজনের বাড়িই মৌলভীবাজার জেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে চমক ও শান্ত কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। প্রায় ২০ মিনিট পর তারা পানিতে তলিয়ে যান।
বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থীদের নজরে এলে কয়েকজন দ্রুত পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে চমককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্তকে খুঁজে পেতে আরও সময় লাগে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তাকেও উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই সপ্তাহ আগেও একই পুকুরে মৃত্যু
এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা।
একই পুকুরে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি পুকুরটির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুকুর সেচে ফেলার উদ্যোগ
একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে সহপাঠীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য দুটি বাসের ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা যেতে পারবেন।
পরপর এমন দুর্ঘটনার পর পুকুরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।



