tanaka

দুই বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বাবর

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে ফিরেছেন পাকিস্তানের তারকা বাবর আজম। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিক২৪ ঘণ্টার আলোচনায় অমিত শাহ, রাহুলের সাফ কথা—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লেকচার শুনতে আগ্রহী নই

২৪ ঘণ্টার আলোচনায় অমিত শাহ, রাহুলের সাফ কথা—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লেকচার শুনতে আগ্রহী নই

ভারতের সংসদের বাদল অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একাধিক ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে বিরোধীরা সরব থাকায় সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা কাটাতে বিরোধীদের সামনে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার নজিরবিহীন প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

বুধবার (১২ আগস্ট) সংসদে অমিত শাহ বলেন, বিরোধীরা লিখিতভাবে আবেদন করলে তিনি বুধবার দুপুর ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। সরকারের লুকোনোর কিছু নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধীরা যে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাব দিতে সরকার প্রস্তুত বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অমিত শাহ আরও বলেন, তিনি সংসদে আসছেন না—বিরোধীদের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। অধিবেশন শুরুর পর থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দপ্তরেও কাজ করছেন। বরং বিরোধীরাই সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বিরোধীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, শুধু আলোচনার প্রস্তাব দিলেই হবে না; যেসব নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে সংসদে এসে জবাব দিতে হবে।

যে ইস্যুগুলোতে উত্তপ্ত সংসদ

বিরোধীদের অন্যতম প্রধান দাবি দিল্লিতে এনইইটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অমিত শাহের জবাবদিহি। আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলি চালানো এবং পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন বলপ্রয়োগের নির্দেশ কে দিয়েছিল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য চেয়েছে বিরোধী শিবির।

এর পাশাপাশি রামমন্দির ট্রাস্টের অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগ নিয়েও সংসদে আলোচনা দাবি করছে বিরোধীরা। এই দুই ইস্যুতে অমিত শাহের বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে বিরোধীদের একাংশ।

এর আগে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি বিরোধীরা। তাদের দাবি, সংসদে এসে অমিত শাহকেই অভিযোগগুলোর জবাব দিতে হবে।

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লেকচার শুনতে আগ্রহী নই’

অমিত শাহের ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলছেন, তা নিয়ে বিরোধীদের আগ্রহ নেই। তার ‘লেকচার’ শুনতেও তারা আগ্রহী নন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। তার প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারার নির্দেশই বা কে দিয়েছিল।

রাহুলের অভিযোগ, এসব নির্দেশ যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এসে থাকে, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত।

অমিত শাহ সংসদে নিয়মিত আসছেন না—এমন অভিযোগও করেন রাহুল। তার দাবি, গত ২০ দিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আসেননি। তবে অমিত শাহ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত সংসদে উপস্থিত হচ্ছেন।

অচলাবস্থা কাটবে কি?

অমিত শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাবকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, যে কোনো বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে বিরোধীদের অবস্থান, শুধু সাধারণ আলোচনা নয়—নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর জবাবদিহিই তাদের মূল দাবি।

ফলে সরকার ও বিরোধীদের অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব আপাতত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একদিকে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে সরকার বিরোধীদের আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন এবং রামমন্দিরের অনুদান নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাদল অধিবেশনের অচলাবস্থা দ্রুত কাটার বদলে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাই দেখা দিয়েছে।