tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়বাংলাদেশে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু আওয়ামী লীগ আমলেই: আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু আওয়ামী লীগ আমলেই: আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ অনৈতিক ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের সূচনা হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম আমলে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যত খারাপ কাজ, শয়তানি কাজ—সবকিছুর শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। বাকিরা শুধু তা অব্যাহত রেখেছে।”

শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসিফ নজরুল বলেন, “আমার লোক–তোমার লোক সংস্কৃতি থেকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য ছোট দলগুলোকেও বের হয়ে আসতে হবে। ছোট দলগুলোও এ ব্যাধি থেকে মুক্ত নয়। এই সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ আমলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।”

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন, ভুয়া নির্বাচন ও প্রশাসনের দলীয়করণসহ নানা ইস্যু উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এসব প্রবণতার সূত্রপাত আওয়ামী লীগ আমলেই। পরে অন্য দলগুলোও তা অনুসরণ করেছে।”

পুলিশি নির্যাতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে পুলিশকে নির্মম, অত্যাচারী ও দমনমূলক বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল। সরকারি দলের নির্দেশে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু কর্মকর্তা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছেন।” উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের নাম উল্লেখ করেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ও ফরেনসিক সুবিধার অভাবও নির্যাতনের অন্যতম কারণ। অনেক সময় অপরাধ স্বীকার করানোর জন্যও অত্যাচার করা হয়, যা এখন সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধি ও গুমসংক্রান্ত আইনে সংশোধন—যাতে আটক ব্যক্তির স্বজনদের ১২ ঘণ্টা ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যথাক্রমে জানাতে হয়।

পুলিশ সংস্কার কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হওয়া প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “শুধু ক্ষমতা থাকলেই কেউ মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করবে, তা নয়। প্রয়োজন মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন।”

শেষে তিনি বলেন, “পুলিশের মধ্যে ‘গার্ড অব অনার সংস্কৃতি’ এখনো বিরাজমান। এই সংস্কৃতি পরিবর্তনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।”