tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠনে ছয় দফা প্রস্তাব অধ্যাপক ইউনূসের

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠনে ছয় দফা প্রস্তাব অধ্যাপক ইউনূসের

বিশ্ব খাদ্য ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পূর্ণ সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “ক্ষুধা কোনো অভাব নয়, এটি আমাদের তৈরি করা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। আমাদের এই কাঠামো বদলাতে হবে।”

রোববার ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খাদ্য ফোরাম (WFF) ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠনে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন:

ইউনূসের ছয় দফা প্রস্তাব:

যুদ্ধ বন্ধ ও সংলাপ শুরু: সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধ ও ক্ষুধার দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।

এসডিজি বাস্তবায়ন ও জলবায়ু ব্যবস্থা: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, জলবায়ু সংকটে কার্যকর পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তা।

আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক: খাদ্য সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রাখতে অঞ্চলভিত্তিক খাদ্য ব্যাংক গঠন।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের সহায়তা: স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন, অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যনীতিকে বাধা নয়, সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলা।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ: গ্লোবাল সাউথের তরুণ কৃষকদের জন্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

❝ক্ষুধা অভাবে নয়, ব্যর্থ কাঠামোর ফল❞

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “২০২৪ সালে বিশ্বে ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল, অথচ পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদিত হয়েছে। এটি খাদ্য উৎপাদনের নয়, অর্থনৈতিক কাঠামোর এবং নৈতিক ব্যর্থতা।”

তিনি আরও বলেন, “যেখানে ক্ষুধা মোকাবেলায় কয়েক বিলিয়ন ডলার জোগাড় করা যায়নি, সেখানে বিশ্ব অস্ত্র কেনায় খরচ করেছে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এটিকে কি অগ্রগতি বলা যায়?”

সামাজিক ব্যবসার বিকল্প মডেল

তিনি পুরনো মুনাফাভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে সামাজিক ব্যবসা চালুর আহ্বান জানান—একটি ব্যবসায়িক মডেল যা সমাজের সমস্যার সমাধান করে, ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য নয়।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজন তিন-শূন্য বিশ্ব: শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ। এটি কল্পনা নয়, অপরিহার্য।”

তরুণদের ভূমিকা ও বিনিয়োগের আহ্বান

অধ্যাপক ইউনূস তরুণদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, “তাদের চাকরি খোঁজার জন্য নয়, বরং চাকরি তৈরির ক্ষমতায়ন করতে হবে।”

তিনি কৃষি-উদ্ভাবন, কৃষিপ্রযুক্তি, চক্রাকার খাদ্য ব্যবস্থা ও জলবায়ু-স্মার্ট উদ্যোগে তরুণদের বিনিয়োগ তহবিল ও সহায়তা কাঠামো গঠনের পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ মডেল

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করছে এবং ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও সহায়তা দিচ্ছে। আমরা ধান, সবজি, ও মাছ উৎপাদনে বিশ্বসেরা দেশগুলোর মধ্যে আছি। ১৩৩টি জলবায়ু সহনশীল ধান উদ্ভাবন করেছি।”

তরুণ নেতৃত্ব ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বাধীন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশ, যেখানে জনগণ শাসনের কেন্দ্রে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এই প্রতিশ্রুতিরই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।”

FAO-র ভূয়সী প্রশংসা

এফএওর ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেন, “এটি শুধুই উদযাপন নয়, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান।” তিনি FAO-এর খাদ্য নিরাপত্তা ও শান্তির লক্ষ্যে গঠিত গ্লোবাল জোটের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

শেষ কথা

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বিশ্বে সম্পদ ও প্রযুক্তি আছে, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি আসবে। দরকার সঠিক চিন্তা ও মানবিক ব্যবসা কাঠামো। কল্পনা করতে পারলে, বাস্তবায়নও সম্ভব।”