-
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ এবং তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আপত্তি রয়েছে দাবি করে তাঁকে অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন সাদিক কায়েম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেল চুয়েটে। শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেউ চায় না, তবুও ভিসি হওয়ার লোভ যাচ্ছে না নিয়োগ পাওয়া বিএনপি নেতার। আজ সকালে ছাত্রদলের ক্যাডারদের নিয়ে ‘সাধারণ শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে এই ভিসি চোরের মতো ক্যাম্পাসে ঢুকেছে। এটাই এই ভিসির বাহাদুরির নমুনা ও যোগ্যতা।’
পোস্টে বিএনপি সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসুর এই ভিপি। তাঁর দাবি, গত আট মাসে ৪৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ব্যক্তিদের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এসব নিয়োগে যোগ্যতার বদলে দেখা হয়েছে কার গোলামি কত বেশি। আমরা আওয়ামী লীগের আমলে দেখেছি অবরুদ্ধ ভিসিদের উদ্ধার করতে ত্রাণকর্তা হয়ে আসতো ছাত্রলীগ, ক্যাম্পাসে টেন্ডার ও উন্নয়ন কাজে চলতো ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের ভাগবাটোয়ারার ব্যবসা।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন সাদিক কায়েম। তাঁর অভিযোগ, অতীতে ছাত্রলীগ যে ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল একই ধরনের ভূমিকা পালন করছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘ছাত্রলীগকে রিপ্লেস করে ছাত্রদল এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনের দারোয়ানের ভূমিকা পালন করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ভিসি পদটি বিশাল লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই, ভিসি নামের গোলামের অপসারণ চাই।’
চুয়েটে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সমালোচনা সামনে এসেছে। তবে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
চুয়েটের ভিসি নিয়োগ নিয়ে সাদিক কায়েমের সমালোচনা, অপসারণের দাবি



