tanaka
প্রচ্ছদখেলাফ্লিকের লক্ষ্য বার্সেলোনাকে টানা তৃতীয় লা লিগা জেতানো

ফ্লিকের লক্ষ্য বার্সেলোনাকে টানা তৃতীয় লা লিগা জেতানো

হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দুই মৌসুম লা লিগা জয়ের পর এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির লক্ষ্য টানা তৃতীয়বার স্প্যানিশ লিগের শিরোপা জেতা। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটাতে চায় তারা। তবে নতুন মৌসুমে স্কোয়াডের পরিবর্তন ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তিশালী প্রস্তুতির কারণে ফ্লিকের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে।

রোববার এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন লা লিগা মৌসুমের যাত্রা শুরু করবে বার্সেলোনা। এর একদিন আগে এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুম শুরুর আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের পর অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী ফ্লিক। সম্ভাব্য সব শিরোপার জন্য লড়াই করতে তার দল প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন জার্মান কোচ।

গ্রীষ্মের দলবদলে বার্সেলোনার স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসকে হারালেও ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে টেনে মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী করেছে কাতালানরা। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে রদ্রির উপস্থিতি গত মৌসুমের কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বার্সেলোনার আধিপত্যে ভাগ বসাতে রিয়াল মাদ্রিদও এবার নিজেদের প্রস্তুত করেছে শক্তভাবে। ক্লাবটি অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনিওকে ফিরিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়ও দলে নিয়েছে তারা। ফলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই এবার আরও জমজমাট হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আক্রমণভাগে আরও একজন মানসম্পন্ন সেন্টার ফরোয়ার্ড যুক্ত করতে চায় বার্সেলোনা। এ ক্ষেত্রে আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজকে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি।

তবে আলভারেজকে দলে আনা সম্ভব না হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ না করে বিকল্প পথেও হাঁটতে পারে বার্সা। সে ক্ষেত্রে দানি ওলমো, রাফিনিয়া, অ্যান্থনি গর্ডন কিংবা করিম আদেইয়েমির মতো খেলোয়াড়দের ফলস নাইন হিসেবে ব্যবহার করে আক্রমণভাগ সাজাতে পারেন ফ্লিক।

নতুন মৌসুমে বার্সেলোনার অন্যতম বড় ভরসা তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চোটের কারণে গত মৌসুমে পুরো সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেননি তিনি। এবার পুরো মৌসুম সুস্থ থেকে মাঠে থাকার লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়ামাল। তার গতি, সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতা বার্সার আক্রমণভাগে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, ইয়ামালের সৃজনশীলতা এবং ফ্লিকের হাই-প্রেসিং কৌশল যদি ঠিকভাবে কাজে লাগে, তাহলে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যালেঞ্জ সামলে টানা তৃতীয় লা লিগা শিরোপা জেতার সুযোগ রয়েছে বার্সেলোনার। তবে ফ্লিকের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে লিগের আধিপত্যের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটানো।