tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশমন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা, সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা, সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম

আগামী ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিএনপি ও মন্ত্রিসভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভায় নতুন করে কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি প্রয়োজন মনে করলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আলোচনায় যাদের নাম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা বর্তমান মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। তাদের কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন নেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের প্রয়োজন হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় ছিল। নজরুল ইসলাম খান বর্তমানে মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ কয়েকজন নেতার নামও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

জোটের নেতাদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এ ছাড়া বিএনপির মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দপ্তর পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনা

মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদকে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রীরা

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় রয়েছে।

একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী চাপ বেড়েছে। ফলে কাজের গতি বাড়ানো এবং মন্ত্রীদের ওপর চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সীমিত পরিসরে নতুন সদস্য যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে মন্ত্রিসভার ওই প্রভাবশালী সদস্যের ভাষ্য, ‘আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।’ আগামী ১৬ আগস্ট সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়নের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।