বর্ষার ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি পানিসমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর পানীয় খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, টকদই, পুদিনাপাতা ও লেবুর শরবত শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, বর্ষার গরমে স্বস্তি দিতে পারে এমন কয়েকটি সহজলভ্য খাবার—
১. কলা
কলা সারা বছরই সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি ফল। এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি ও সি, আঁশ এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট কমে গেলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার তা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তাই গরমের দিনে খাদ্যতালিকায় কলা রাখা যেতে পারে।
২. শসা
শসায় প্রচুর পানি থাকায় গরমের সময়ে এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক। সালাদ হিসেবে কাঁচা শসা খাওয়া যায়। চাইলে শসার সঙ্গে ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ও টকদই মিশিয়েও স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করতে পারেন।
৩. পেঁয়াজ
কাঁচা পেঁয়াজ সালাদ বা খাবারের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। এতে কোয়ারসেটিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। তবে পকেটে পেঁয়াজ রাখলে হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ হয়—এমন প্রচলিত ধারণার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পেঁয়াজ খাওয়াই ভালো।
৪. অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত একটি উদ্ভিদ। রোদে পোড়া ত্বকে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে অ্যালোভেরার জুস পান করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন এবং নিরাপদ ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য ব্যবহার করা উচিত।
৫. টমেটো
টমেটোতে প্রচুর পানি, ভিটামিন সি ও লাইকোপেনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সালাদ, জুস কিংবা রান্না করে টমেটো খাওয়া যায়। গরমের সময়ে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
৬. তরমুজ
গরমের সময়ে পানিসমৃদ্ধ ফল হিসেবে তরমুজ বেশ জনপ্রিয়। এতে প্রচুর পানি ও বিভিন্ন ভিটামিন-খনিজ রয়েছে। শরীরের পানির চাহিদা পূরণে তরমুজ সহায়ক হতে পারে। তাই গরমের দিনে পরিমিত পরিমাণে তরমুজ খাওয়া যেতে পারে।
৭. পুদিনাপাতা
পুদিনাপাতা খাবার ও পানীয়তে স্বাদ ও সতেজতা বাড়ায়। এতে মেন্থল ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। পুদিনাপাতা দিয়ে শরবত, সালাদ কিংবা টকদইয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি করা যায়।
গরমে স্বস্তি পেতে শুধু নির্দিষ্ট কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



