tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকঅন্ধকার গাড়িতে বৈঠক, সত্যিই মোজতবা খামেনি ছিলেন কি না—সন্দেহ পেজেশকিয়ানের

অন্ধকার গাড়িতে বৈঠক, সত্যিই মোজতবা খামেনি ছিলেন কি না—সন্দেহ পেজেশকিয়ানের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এক অস্বাভাবিক ও রহস্যময় বৈঠকের দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের একটি গোপন স্থানে অন্ধকার কাচঘেরা একটি গাড়ির ভেতরে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, যেখানে পেজেশকিয়ান নেতার মুখ দেখতে পাননি।

প্রতিবেদনটির দাবি, বৈঠকের পর পেজেশকিয়ান এমনকি সন্দেহ প্রকাশ করেন—তিনি যে কণ্ঠ শুনেছেন, সেটি সত্যিই মোজতবা খামেনির ছিল কি না।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকটি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের মধ্যে স্বাভাবিক কুশল বিনিময় বা করমর্দনের সুযোগও দেননি।

তবে এর আগে মে মাসে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের এক অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান দাবি করেছিলেন, তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার সাক্ষাতের আবেদন এবং পদত্যাগের হুমকির পর খামেনির দপ্তর থেকে ওই বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার সরকারি বাসভবনে না হয়ে ভিন্ন স্থানে বৈঠক আয়োজন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

বৈঠকের ধরন নিয়ে প্রশ্ন

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ানকে তার গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি কালো কাচঘেরা গাড়িতে নেওয়া হয়, যেখানে মোজতবা খামেনি আগে থেকেই ছিলেন। গাড়ির ভেতরের পরিবেশ এতটাই অন্ধকার ছিল যে কেউ কাউকে দেখতে পাননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান নিজের দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে এই সাক্ষাৎকে ‘অপমানজনক’ বলে বর্ণনা করেন। পরে তিনি খামেনির বাসভবনে দ্বিতীয়বার সাক্ষাতের অনুরোধ করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

পেজেশকিয়ান এর আগে স্বীকার করেছিলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এএফপিকে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব কঠিন, তবে আমাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তার উপস্থিতি একটি বড় শক্তির উৎস।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি সর্বোচ্চ নেতা সম্পর্কে নেতিবাচক ও ভুল ধারণা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

নীতিনির্ধারণে মতবিরোধের দাবি

পেজেশকিয়ানের প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে একঘরে করে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি মে মাসে পদত্যাগের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিছু ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়ে মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এবং নীতিনির্ধারণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

মোজতবা খামেনির প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার নামে বার্তা প্রচার করা হলেও সরাসরি উপস্থিতি সীমিত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই সময়ে তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা করেননি এবং খুব অল্পসংখ্যক ব্যক্তি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে মোজতবা খামেনির প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোজতবা খামেনির অবস্থানও দুর্বল হয়েছে।