কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ ও জরিমানা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৮০ সেন্ট বা ০.৯৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৬৪ সেন্ট বা ০.৮৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ দশমিক ৯৩ ডলারে লেনদেন হয়।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, দেশটির পার্লামেন্টে একটি খসড়া বিল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও অন্যান্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের পণ্যমূল্যের ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য পণ্যমূল্যের ওপর ইরান ৫ থেকে ৭ শতাংশ এবং ওমান ৩ শতাংশ সেবা মাশুল বা টোল দাবি করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনো মাশুল দিতে রাজি নয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার খবরে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন শর্তের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আবারও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
তাদের ধারণা, প্রণালিটি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের পরিবর্তে শর্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা চালু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি মনে করেন চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর বীমা নীতিমালার কারণে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।



