tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদজাতীয়নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে সরকারপ্রধান জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি পিজিআরের সদস্যদের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে এ বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই আস্থা রাখতে চাই। তাই নিরাপত্তা কৌশল এমন হতে হবে, যাতে জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই পিজিআরে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই বাহিনীর দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

পিজিআরের দায়িত্বকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বও তাদের পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতার কারণেই পিজিআর একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ অর্জনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের দৃঢ় দায়িত্ববোধ প্রশংসার দাবি রাখে।

সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের সাহস ও গৌরবের প্রতীক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় থাকলে দেশের সার্বভৌমত্ব কখনও হুমকির মুখে পড়বে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ধরন বদলে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন হুমকি মোকাবিলায় বাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে বাহিনীটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ রাখেন, যা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে।

তিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের সময় কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পিজিআরের সদস্যদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও আনুগত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে গঠিত এই বিশেষায়িত বাহিনী বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীন একটি বিশেষ ইউনিট হিসেবে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করে।

সূত্র: বাসস