বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী র নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
জেলা প্রশাসক বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ফোনে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। তবে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দেয়। বিশেষ করে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের নামকরণ প্রক্রিয়ায় গণশুনানির কথা বলা হলেও তা যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা দাবি করেছেন, নামকরণ নিয়ে কোনো গণশুনানির বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতেই নামগুলো সুপারিশ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা দাবি করেন, কিছু দলীয় নেতাকর্মী প্রতিমন্ত্রীর পরিবারকে সম্মান জানাতে তার পৈতৃক বাড়ি, দুই ছেলে এবং এক আত্মীয়ের নামে ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। পরে সেই প্রস্তাব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।
তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নামকরণের বিষয়টিকে ‘কাকতালীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ইউনিয়নের নাম নির্ধারণে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। জাতীয় সংসদেও এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির মাধ্যমে নামগুলো চূড়ান্ত করেছে।
এদিকে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে জাতীয় সংসদ, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সমালোচকদের মতে, বিষয়টি স্বজনপ্রীতি ও নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকরা বলছেন, নামকরণ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে বিভিন্ন সভা ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে চারটি ইউনিয়নের নাম নির্ধারণ করা হয় এবং পরে সেগুলোর গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে চলমান বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এখন ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এবার জনমতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে।



