tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকপাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলার দাবি

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলার দাবি

প্রতিবেশী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ‘শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের’ অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে পরিচালিত এ হামলায় পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অবস্থিত কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। কাবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় আইএসআইএল-খোরাসান (আইএসআইএস-কে)-এর ঘাঁটি ছিল এবং সেখান থেকেই আফগানিস্তানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে আইএসআইএস-কে’র শীর্ষ নেতাদের একটি আস্তানাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নীরব সহযোগিতায় এসব ঘাঁটি পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে আফগানিস্তানের এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘মনগড়া’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, দায়েশ (আইএসআইএল)সহ দুই ডজনের বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগানিস্তানের মাটিতেই অবস্থান করছে এবং তারা আফগান তালেবান সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।

হামলায় কী ধরনের বিমান বা সামরিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি কাবুল। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের হাতে সীমিত সংখ্যক হালকা বিমান, হেলিকপ্টার এবং সামরিক ড্রোন রয়েছে, যা অতীতেও সীমান্তসংক্রান্ত অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)সহ বিভিন্ন গোষ্ঠী পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করছে।

চীনের মধ্যস্থতায় গত মার্চে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এ হামলাকে অনেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না এবং প্রয়োজন হলে হুমকির উৎস নির্মূলে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা