tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়ইন্টারপোল

ইন্টারপোল

দুবাই থেকে যাদের ফেরানো গেছে-যাদের যায়নি, বেনজীরের সম্ভাবনা কতটা

  • রেড নোটিশ জারি হলেও অধিকাংশ পলাতক বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো যায়নি
  • বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই
  • বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা আলাদা ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া
  • ইউএই আইনে গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে

বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। বর্তমানে এর সদস্য দেশ ১৯৬টি। ইন্টারপোলের মূল কাজ বিশ্বজুড়ে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং বিভিন্ন দেশের পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করা।

ইন্টারপোল কোনো দেশের নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী বা পুলিশের মতো সরাসরি কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। সদস্য দেশগুলোর পুলিশের মধ্যে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার হওয়ার খবরে আবার সামনে আসে ইন্টারপোলের নাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বলেই খবর। আমিরাত এরই মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছে।বেনজীর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সামনে আসছে তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ার বিষয়টি। কীভাবে, কবে তাকে দেশে ফেরানো হবে, ফেরানো আদৌ সম্ভব কি না- এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।দেশের বাইরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার হওয়া আগের আসামিদের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে? সেটা একবার দেখে আসা যাক।

দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনা হয় দুই আসামি

২০২৩ সালের ২৩ জুন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মাঝমাঝি অন্যতম আসামি মহসিন মিয়াকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।

একই মামলার অন্যতম আসামি আরিফ সরকারকেও গত ৬ মে দুবাই থেকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম দুবাই গিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দুবাই থেকে ফেরানো যায়নি যাদের

বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করানো এক বিষয় আর পলাতককে দেশে ফেরানো আরেক বিষয়। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে রেড নোটিশের তালিকায় এখন ৫৯ বাংলাদেশির নাম আছে। তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডিত ও নানা মামলার পলাতক আসামি আছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশকে দেশে ফেরানো যায়নি।এক্ষেত্রে বড় উদাহরণ আরাভ খান নামে পরিচিত রবিউল ইসলাম। পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খান হত্যা মামলায় ২০২৩ সালের আরাভ খানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়। তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু তাকে দেশে ফেরানো জটিল হয়ে যায়। কারণ, তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার তথ্য আসে। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হলেও অন্য দেশের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরানো যায়নি। এ ধরনের বহুপক্ষীয় জটিলতা প্রত্যর্পণকে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত করে।

আরেকটি উদাহরণ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ। ২০১৯ সালে তাকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের খবর আসে। তখন বাংলাদেশ তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তার অবস্থান নিয়েই অস্পষ্টতা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তখন বলেছিল, তিনি ভারতীয় ও ডমিনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আনা যায়নি।জিসানের ফেরানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন পুলিশের এমন দুজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসানের সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য ছিল বাংলাদেশের পুলিশের কাছে। কিন্তু দুবাইয়ের পুলিশের কাছে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। তখন দুবাই পুলিশ জিসান সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য চেয়েছিল, যা নানা কারণে দিতে পারেনি বাংলাদেশের এনসিবি। এ কারণে জিসানকে তখন ফেরানো সম্ভব হয়নি।