ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ দলটিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে দলটির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা ও বহরমপুরের সাবেক সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
এনসিপিআইয়ের ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তাদের ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এছাড়া বিজেপির ১২টি, তৃণমূল কংগ্রেসের আটটি এবং কংগ্রেসের একটি আসন রয়েছে। সেই হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে তারাই সবচেয়ে বড় সংসদীয় রাজনৈতিক শক্তি বলে দাবি করেছে দলটি।
সোমবার (১৫ জুন) বহরমপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধীর চৌধুরী বলেন, এনসিপিআইয়ের উৎপত্তি ভারতে নয়, বাংলাদেশে। তার দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা ভারতের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
অধীর চৌধুরী বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু মানুষ নয়, রাজনৈতিক দলও সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দলকে আমি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বলতে রাজি নই। ‘সিটিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘চিটিজেন্স’ বলা উচিত। তারা জনগণকে প্রতারিত করেছে।”
এ সময় মুর্শিদাবাদ জেলার তিন তৃণমূল সাংসদের দলবদল নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে উদ্দেশ করে অধীর বলেন, “তিনি এখানে ভোটের রাজনীতিতে অংশ নিতে এসেছিলেন, সেটি ছিল এক ধরনের চুক্তিভিত্তিক অংশগ্রহণ। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে, তাই নতুন সমীকরণে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
তৃণমূল ছেড়ে নতুন দলে যোগ দেওয়া নেতাদের উদ্দেশে অধীরের মন্তব্য, তারা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সুবিধা এবং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার হিসাব কষেই দলবদল করেছেন। তার ভাষায়, “টাকা, প্রলোভন, ভয় এবং ক্ষমতার সুবিধা ভোগের আশায় কিছু নেতা দল পরিবর্তন করছেন, যা বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক নয়।”
এদিকে অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



