tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিরাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার গল্প ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার গল্প ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে আন্দোলন, সংঘাত ও ক্ষমতার লড়াইয়ের নানা অধ্যায়ের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য বেদনাবিধুর পরিবারের গল্প। গুম, খুন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জন, উপার্জনক্ষম সদস্য কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা। এমন বাস্তবতায় রাজনৈতিক কার্যক্রমের বাইরে মানবিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বিএনপির সামাজিক সহায়তা প্ল্যাটফর্ম ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

২০২৪ সালের ২২ মার্চ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

যদিও সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা ২০২৪ সালে, এর মানবিক কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে। দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকেই লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতেন এবং নীরবে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ঈদে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার মতো উদ্যোগগুলো ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত রূপ পায়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালসহ দেশের নানা স্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ২৯২টি শহীদ পরিবার এবং ২৮৫ জন আহত ব্যক্তির পুনর্বাসনে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের ৪০টিরও বেশি জেলায় পৌঁছে গেছে সংগঠনটির কার্যক্রম। রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সাফজয়ী নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া ছিল আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী সেখানে গিয়ে ঋতুপর্ণার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি তদারকি করেন।

সেই সফরে তিনি বলেন, মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া রাজনীতি পূর্ণতা পায় না; দেশের প্রতিটি মানুষই বৃহত্তর পরিবারের অংশ।

এ ছাড়া সেন্টমার্টিনের জেলে পরিবার, মৌলভীবাজারে সীমান্তে নিহত কিশোরীর পরিবার এবং চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের কাছেও পৌঁছেছে সংগঠনটির সহায়তা।

তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। নীলফামারী ও ফেনীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন ঘর নির্মাণ, জীবিকা নির্বাহের উপকরণ সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি প্রদান করা হয়েছে। গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ১৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি পরিবারের মেয়েদের বিয়ের দায়িত্বও গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।

সামাজিক কল্যাণের পাশাপাশি তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে এই প্ল্যাটফর্ম। চট্টগ্রামে এক তরুণ ড্রোন উদ্ভাবককে সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক অনুদান তার উদাহরণ। পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপন, লেক পরিষ্কার এবং মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মতো কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার সময়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে সংগঠনটি। বিমান দুর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে তাদের স্বেচ্ছাসেবক দল।

সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন মনে করেন, রাজনীতি কেবল সভা-সমাবেশ বা আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করাও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।

সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, তারেক রহমানের মানবিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার আলোকে বিশেষ টিম সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ শুধু একটি সহায়তা সংগঠন নয়; এটি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্ককে আরও মানবিক ও পারিবারিক বন্ধনে যুক্ত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।