tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজধানীরামিসা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

রামিসা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্তকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ রেখেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সময় রামিসার মা দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে সেটি খোলা হয়নি। এ সুযোগে অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পালানো নিশ্চিত হওয়ার পরই দরজা খোলেন স্বপ্না।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় থেকেই পুরো বিষয়টি জানতেন স্বপ্না। বরং স্বামীকে পালাতে সহায়তা করতেই তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তদন্তে তাকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে পাওয়া গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল শিশু রামিসা। নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিমাকদমা চৌদ্দগ্রামে। নিহত রামিসার পরিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে এসে একই ভবনে ভাড়া থাকত।

ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, পাশের ফ্ল্যাটে বসবাসকারী মাদকাসক্ত সোহেল দুই ফ্ল্যাটের মাঝের ফাঁকা স্থান দিয়ে শিশুটিকে টেনে নিজের কক্ষে নেয়। পরে বাথরুমে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে।

বুধবার (২০ মে) আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও মঞ্জুর করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান স্বপ্না। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার জুতা দেখতে পান অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান।

আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না স্বীকার করেন যে তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বিকৃত করে খাটের নিচে রাখা হয় এবং বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বালতিতে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা।