tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশকক্সবাজার ও নওগাঁয় সাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

কক্সবাজার ও নওগাঁয় সাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

কক্সবাজার ও নওগাঁয় সাতটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজন এবং কক্সবাজারের টেকনাফে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুটি পৃথক ঘটনায় মোট সাতজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)। নিহত হাবিবুর রহমান স্থানীয় নমির উদ্দিনের ছেলে।

ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), দুই বোন ডালিমা বেগম (৪৫) ও শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)–কে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘরের দরজা-জানালা অক্ষত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা পরিচিত কেউ হতে পারে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম আহমেদ ও নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে ঘটনাটি জানাজানি হয়। হাবিবুরের বাবার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘটনাটি জানতে পারেন। নিহতদের স্বজনরা জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

হাবিবুরের স্ত্রী’র মামা আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, ঈদের আগে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করার ঘটনাও ঘটেছিল। নিহত পপির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

নওগাঁ পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি ডাকাতির ঘটনা নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে দুর্গম পাহাড়ি ঢাল থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়।

নিহতরা হলেন—আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং নুর বশর (২০)।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকালে কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে ঝোপের পাশে মরদেহ দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

নিহত রবির বাবা রুহুল আমিন জানান, সোমবার রাতে রবি খাবার শেষে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি অত্যন্ত নির্মম হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কারও কারও ধারণা, ওই পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্র সক্রিয় রয়েছে। নিহতরা হয়তো কোনো অপরাধচক্রের তথ্য জেনে ফেলায় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।