বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলী আদালতের বিচারক সুমন ভূঁইয়া এ নির্দেশ দেন। এর আগে ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হুমায়ূন কবীর জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন এবং ইসলামী রীতিনীতি পালন করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীকে “নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী” বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
মামলায় বলা হয়, ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে। এ কারণে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির মামলা করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে আমির হামজাকে আরও বলতে শোনা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইসলামবিদ্বেষী এবং ধর্মীয় বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও হাসপাতালের জেনারেটর ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই ঘটনায় গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে অ্যাডভোকেট এসএম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানির আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাতেও আদালত সমন জারি করেছিল।



