লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি। ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ কিছু খাবার লিভারের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
লিভার শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, প্রোটিন তৈরি, রক্ত পরিশোধন এবং হজমে সহায়তাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। অতিরিক্ত মদ্যপানের পাশাপাশি চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ পাঁচটি খাবার—
১. সবুজ শাক ও সবজি
পালংশাক, মেথিশাক ও পুঁইশাকের মতো সবুজ শাকে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
২. তৈলাক্ত মাছ
সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. আখরোট
আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আর্জিনিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এসব উপাদান হৃদ্যন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের পাশাপাশি লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতেও সহায়ক হতে পারে। প্রতিবেদনে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪. বিট
বিটে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও নাইট্রেট। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও বিটের পুষ্টিগুণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. লেবু ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল
লেবু, পেয়ারা ও আমলকির মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে এসব ফল রাখা যেতে পারে।
মনে রাখবেন: কোনো একটি খাবার খেলেই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত।



