tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশময়মনসিংহ বোর্ডে এইচএসসিতে ১৯ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি, শতভাগ পাস ৫টিতে

ময়মনসিংহ বোর্ডে এইচএসসিতে ১৯ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি, শতভাগ পাস ৫টিতে

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের অধীন ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭০ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ২ হাজার ১৩৭ জন। তবে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। বিপরীতে শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ফলাফলসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহাদত উল্লাহ, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আ. খ. ম. কামাল হোসেন, কলেজ পরিদর্শক এস এম আরিফুর রহমানসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৬৪৭ জন এবং ছাত্রী ২০ হাজার ৭০৭ জন। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ১১৯ জন। অর্থাৎ পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।

বিভাগ অনুযায়ী ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছে। এ বিভাগে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৪৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪২ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ময়মনসিংহে, ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেরপুরে পাস করেছে ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ পরীক্ষার্থী। জামালপুর জেলার পাসের হারও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে প্রাপ্ত তথ্যে এ জেলার নির্দিষ্ট হার উল্লেখ নেই।

এবার ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ১১৩টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এগুলো হলো ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও ময়মনসিংহ সিটি কলেজ এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অন্যদিকে ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে জামালপুরের প্রতিষ্ঠান চারটি—শ্রীপুর কুমারিয়া নাছুবা হাকিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, এস এম শিখা মোখলেছুর রহমান কলেজ, ইসলামপুরের গোয়ালের চর উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাদারগঞ্জের নব্যচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।

ময়মনসিংহ জেলার অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ঈশ্বরগঞ্জের কোনাপাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, নান্দাইলের বরিল্লা কে এ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ, ত্রিশালের আউলিয়ানগর কলেজ এবং তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজ।

এ ছাড়া নেত্রকোনার সাতটি প্রতিষ্ঠানেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সেগুলো হলো ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ, কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ ও অ্যামবিশন মডেল কলেজ এবং কলমাকান্দা মহিলা কলেজ। শেরপুরের মন্মথ দে মহাবিদ্যালয় ও ঝিনাইগাতীর আলহাজ এস এম এ ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজেও কেউ উত্তীর্ণ হয়নি।

বোর্ডের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ গণিত, হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে প্রয়োজনীয় নম্বর অর্জন করতে পারেনি। এসব বিষয়েই তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে।