যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির তেহরান সফর করেছেন। তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত সংঘাত শেষ হওয়ার ইঙ্গিতের মধ্যেই এই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এর আগে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি দ্রুতই শেষ হতে পারে। ফক্স নিউজে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হতে পারে।
বর্তমানে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়সীমা বাড়াতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক বার্তা বিনিময় হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তেহরানে উভয় পক্ষের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে, যা আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। বাঘাইয়ের ভাষায়, যুদ্ধের অবসান, ইরানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ; তবে বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহী হলেও কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তার ভাষায়, জোরপূর্বক কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না।
এদিকে ট্রাম্প তার সামরিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। তিনি চীনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, বেইজিং ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগকে সমর্থনের কথাও বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং অবরোধ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ালেও একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও ত্বরান্বিত করেছে। পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং দুই পক্ষের শর্তসাপেক্ষ নমনীয়তা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি এখন গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে, এই সংঘাত শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোবে, নাকি নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়বে।



