যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর অবরোধ আরোপ করলেও প্রথম দিনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যাঘাত দেখা যায়নি। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে মোট ৮টি জাহাজ, যার মধ্যে ইরানের ৩টি তেলবাহী জাহাজও রয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এই অবরোধের ঘোষণা দেন। এর আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
তবে অবরোধ ঘিরে শিপিং কোম্পানি, তেল ব্যবসায়ী এবং বীমা খাতের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দৈনিক যেখানে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত, এখন সেই সংখ্যা অনেক নিচে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করতে পারেনি। তাদের নির্দেশে ছয়টি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গিয়ে ইরানের বন্দরে ফিরে যায়।
অন্যদিকে, ইরান-সম্পর্কিত তিনটি জাহাজ প্রণালী পার হলেও সেগুলো ইরানের বন্দরে যাচ্ছিল না বলে অবরোধের আওতায় পড়েনি। এর মধ্যে “পিস গাল্ফ” নামের একটি পানামা পতাকাবাহী ট্যাংকার রয়েছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
এছাড়া আরও কয়েকটি জাহাজ—যার মধ্যে রাসায়নিক ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার, শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ এবং একটি কার্গো জাহাজ—প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইরানের বন্দর আব্বাসে নোঙর করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অবরোধকে ঝুঁকিপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সব জাহাজ সম্পূর্ণভাবে আটকে না রেখে আংশিক বা লক্ষ্যভিত্তিকভাবে অবরোধ কার্যকর করছে, যাতে সরাসরি ধ্বংস না করে জাহাজের গন্তব্য পরিবর্তনে চাপ সৃষ্টি করা যায়।
এদিকে, যুদ্ধ ঝুঁকির বীমা ব্যয় এখনো ব্যাপকভাবে না বাড়লেও অতিরিক্ত প্রিমিয়াম হিসেবে প্রতি সপ্তাহে কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ভবিষ্যতে আরও হ্রাস পেতে পারে।



