ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের পর ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ যুদ্ধে ইরানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান।
শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপরও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশটির নৌবাহিনী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং সামরিক জনবলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হতাহতের দিক থেকেও পরিস্থিতি গুরুতর। আনুমানিক ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার সামরিক সদস্যসহ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর ৬৬ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ১৬০ থেকে ১৯০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং আরও শত শত উৎক্ষেপক অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
নাতাঞ্জ, ইয়াজদ ও আরাকসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত ৮ থেকে ১৫ বছর পিছিয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুদ্ধে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, সারাদেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক ভবন রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
স্বাস্থ্যখাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবাকেন্দ্রসহ মোট ৩৯৯টি চিকিৎসা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিক্ষা খাতও রেহাই পায়নি। হামলায় ৮৭৫টি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া রেড ক্রিসেন্টের শাখা, ঘাঁটি ও গুদামসহ অন্তত ২০টি স্থাপনাকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানান কলিভান্দ।



