অস্ট্রেলিয়ায় সফরকালে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর পর এবার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার।
স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার জন্য তাদের দায়ী করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শায়খ আহমাদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরকালে সিডনিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে তার পূর্বের কিছু ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একটি ভিডিওতে তাকে ইহুদিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ চরম ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তার ভিসা বাতিল করে। ফলে তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকলেও পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না।
শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়াহ সার্কেল’-এর আমন্ত্রণে ‘এ লেগাসি অব ফেইথ’ শীর্ষক একটি ট্যুরে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সিডনির পাঞ্চবোলে তার প্রধান বক্তা হিসেবে থাকার কথা ছিল। তবে ভিসা জটিলতা ও বিতর্কের কারণে তিনি আগেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন। এর ফলে সিডনি ছাড়াও ক্যানবেরা, অ্যাডিলেড ও পার্থে নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যারা ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামফোবিক মতাদর্শ ছড়ায়, তাদের প্রতি আমাদের কোনো সহনশীলতা নেই। মাইগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এর আগে বাংলাদেশি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেলিয়া ক্যাশ এই ঘটনাকে ঘিরে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “অস্ট্রেলিয়া একটি পশ্চিমা দেশ এবং আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ রয়েছে। যারা এখানে ঘৃণা ছড়াতে আসে, তাদের শুরুতেই প্রবেশাধিকার দেওয়া উচিত ছিল না।” তিনি ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, শায়খ আহমাদুল্লাহকে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ করা হবে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।



