। জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ সতর্ক করে বলেছেন, সংস্থাটির ক্রমবর্ধমান অর্থসংকট সরাসরি শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও। মাসের শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো সময়মতো বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করলে কিংবা বাজেট কাঠামো পুনর্বিবেচনা না করলে বিশ্ব সংস্থাটি তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাতিসংঘের বকেয়া অর্থের পরিমাণ রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলছে। অনলাইন জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশেষ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইফতিখার বলেন, অর্থনৈতিক ঘাটতির কারণে ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম অপরিহার্য হলেও বর্তমানে এটি রাজনৈতিক, পরিচালনাগত ও আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে, যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পাকিস্তানের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, দেশটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি সৈন্যদাতা রাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত ৪৮টি মিশনে চার মহাদেশে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের পতাকার তলে প্রাণ হারানো ১৮২ জন পাকিস্তানি শান্তিরক্ষীর প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রদূত আরও সতর্ক করেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও স্পষ্ট কৌশলগত নির্দেশনা ছাড়া মিশনের সংখ্যা হ্রাস, সৈন্যদাতা দেশগুলোর প্রস্তুতি, দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই—এসবই শান্তিরক্ষা মিশনের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বহাল থাকবে। রাজনৈতিক অগ্রগতি না থাকার অজুহাতে কোনো মিশন প্রত্যাহার করা উচিত নয় বলেও তিনি মত দেন।



