নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই তাকে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে সম্ভাবনার কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পূর্ববর্তী সংসদের কোনো স্পিকার দায়িত্বে না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণে বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নেন। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এর আগে আগস্টে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। আইন উপদেষ্টা আরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার শপথ গ্রহণ করান; স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়োজনে বিকল্প বিধানও রয়েছে। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমেই শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
তাদের (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং বিশেষ করে স্পিকার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদের দিয়ে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করানোর সুযোগ নেই বলেই তিনি মনে করেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে দেওয়া হবে। এছাড়া আরেকটি বিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।
অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরদিন বঙ্গভবন-এ নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এমপিদের শপথ শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনপ্রাপ্ত দল বিএনপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।



