tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে জেন–জি ভোট -রয়টার্সের প্রতিবেদন

নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে জেন–জি ভোট -রয়টার্সের প্রতিবেদন

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে নির্বাচনকালে বিরোধী দলগুলোর রাজপথের উপস্থিতি ছিল সীমিত। কখনো নির্বাচন বর্জন, কখনো শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তারে তারা কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। তবে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফল নির্ধারণে বড় প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে জেনারেশন জেডের ভোট। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশেই এমন নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে সংসদে কারা যাবেন—তা নির্ধারণে জেন–জি ভোটারদের ভূমিকা হবে নির্ণায়ক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অনেক তরুণ মনে করছেন, ২০০৯ সালের পর এটি হবে দেশের প্রথম প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন।

এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ের সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটও শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। ৩০ বছরের কম বয়সী জেন–জি কর্মীদের পরিচালিত একটি নতুন দল—ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)—যারা হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, তারা নিজস্ব ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের জন্য ‘যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, বিভক্ত ফলাফলের পরিবর্তে একটি স্পষ্ট রায় আসা এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতসহ বড় শিল্পগুলোও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকেও প্রভাবিত করবে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন। ফল নির্ধারণে বহু বিষয় কাজ করবে, বিশেষ করে মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জেনারেশন জেড—তাদের ভোট।’

সারাদেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা–কালো পোস্টার ও ব্যানার বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ ও দেয়ালে শোভা পাচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী কার্যালয়গুলো দলীয় প্রতীকে সাজানো, বাজছে নির্বাচনি গান। পাশাপাশি বহু স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও দেখা যাচ্ছে।

এটি আগের নির্বাচনের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র, যখন আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করত। একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীর এবারের নির্বাচন তাদের ইতিহাসে সেরা ফল হতে পারে বলে জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সরকার গঠন নাও করতে পারে দলটি। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত—যে স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ভারতের সমর্থনপুষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের রায় বাংলাদেশে চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ প্রভাবও নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনাকে ভারতঘেঁষা নেতা হিসেবে দেখা হতো এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, নয়াদিল্লির প্রভাব কমার প্রেক্ষাপটে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় ভারতের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে তারা পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। পাকিস্তান একটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ এবং ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।

জামায়াতের জেন–জি মিত্র দলটি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশে নয়াদিল্লির আধিপত্য’ তাদের প্রধান উদ্বেগের একটি। দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজের এক জরিপে দেখা গেছে, ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দুর্নীতি, এরপরেই রয়েছে মূল্যস্ফীতি।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আগ্রহের বড় কারণ তাদের ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তি—ইসলামী আদর্শের চেয়ে এই ভাবমূর্তিই বেশি প্রভাব ফেলছে।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, ভোটাররা বিপুলভাবে ভোট দিতে আগ্রহী এবং তারা ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয় নয়, বরং দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যারা দায়িত্বশীল, দক্ষ এবং জনগণের প্রতি যত্নশীল।

সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকেই পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে গেলে তাদের আমির শফিকুর রহমানও দেশের শীর্ষ দায়িত্বে আসতে পারেন।