tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার হুমকিতে তেহরানের কঠোর বার্তা

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার হুমকিতে তেহরানের কঠোর বার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি জানিয়েছেন, যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। হাতামি সতর্ক করে বলেন, “শত্রুরা যদি ভুল করে হামলা চালায়, তবে তারা নিজেদের নিরাপত্তা, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার (ইসরায়েল) নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে।”

তিনি আরও জানান, ইরান কোনো আগ্রাসন চায় না এবং সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। তবে আক্রমণ হলে কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।

এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি নৌ-স্ট্রাইক গ্রুপ অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে, টানা দুই সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন।

এই মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়েছে। তেহরান জানিয়েছে, আক্রমণ হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং তাদের মিত্রদের—বিশেষ করে ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী ইরান সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তির পথে যেতে আগ্রহী হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা করবে না।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই সময় ইসরায়েলের সঙ্গে চলা ১২ দিনের সংঘাতে ইরান সংক্ষিপ্তভাবে জড়িয়ে পড়ে। এতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীরা নিহত হন।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার আবারও দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আমির হাতামি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি নির্মূল করা যাবে না—এমনকি এই জাতির বিজ্ঞানী ও সন্তানরা শহীদ হলেও নয়।”

prothomnews24.com/moha