গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একান্তই গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কের। এটি একটি মৌলিক অধিকার, এবং যুক্তরাজ্য এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়।
একই সঙ্গে আটটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার বিষয়ে স্টারমার বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এবং পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষায় তার সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ডাউনিং স্ট্রিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন স্টারমার। খবর বিবিসির।
মতপার্থক্য নিরসনের সর্বোত্তম উপায় হিসেবে শান্ত আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্টারমার বলেন, বাস্তবে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন না বলে তিনি মনে করেন। তবে পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন সময়ে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ১ জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যের জিডিপি প্রায় ০.৫ শতাংশ কমতে পারে। এর প্রভাব ইউরোপীয় শেয়ারবাজারেও পড়েছে। সোমবার সকালে গাড়ি ও বিলাসপণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়।
এদিকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি শুল্ক আরোপের হুমকির নিন্দা জানিয়ে বলেন, যুক্তিসংগত সংলাপের পরিবর্তে শুল্ক কখনোই দরকষাকষির হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।
স্টারমার আরও জানান, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়াতে ইউক্রেন ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে স্টারমার বলেন, এই সম্পর্ককে শক্তিশালী ও গঠনমূলক রাখতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



