ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির প্রতি সমর্থন ৩৪.৭%, আর জামায়াতের সমর্থন ৩৩.৬%। এছাড়া আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার ১৭.০%, ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১%, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১%, এবং অন্যান্য দল ৪.৫% ভোট পেতে পারে।
মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রজেকশনের ভিত্তিতে আনডিসাইডেড ভোটারদের সম্ভাব্য ঝোঁক হিসাব করলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২% এবং জামায়াতের সমর্থন ৪০.৮% পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই জরিপ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬” শীর্ষক এই জরিপটি পরিচালনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি, যৌথভাবে প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভ এর সঙ্গে।
ভোটারদের আগ্রহ ও সমর্থনের কারণ
- মোট ভোটারের প্রায় ৬৬% ভোট দিতে আগ্রহী।
- বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৭২% মনে করেন, দলের রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা প্রধান সমর্থনের কারণ। বিশেষ করে ৩০–৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং কৃষক ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে সমর্থন বেশি।
- জামায়াত সমর্থকরা মূলত কম দুর্নীতি ও সততার কারণে আস্থা রাখেন। ১৮–২৯ বছর বয়সী তরুণ এবং উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা দলের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যান্য দল ও সিদ্ধান্তহীন ভোটার
- ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-কে সমর্থন দিচ্ছেন ভোটাররা মূলত জুলাই অভ্যুত্থানে দলের ভূমিকার কারণে।
- জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১৭% ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নেননি, তাদের মধ্যে অনেক ভোটার কোনো দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পারেন।
সারসংক্ষেপ
জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি বনাম সততা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের রাজনীতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটাররা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুসহ আরও অনেকে।



