tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়অনুপযোগী সাড়ে ১২ হাজার ভোটকেন্দ্র: সংস্কারে বরাদ্দ ১২৪ কোটি টাকা

অনুপযোগী সাড়ে ১২ হাজার ভোটকেন্দ্র: সংস্কারে বরাদ্দ ১২৪ কোটি টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেশের ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোর বাউন্ডারি বা সীমানা প্রাচীর নেই, দরজা–জানালা জরাজীর্ণ এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অনুপযোগী এসব ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কারের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ১২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার ও মেরামতের জন্য এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অর্থ উপদেষ্টার কাছে ১২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে আধা-সরকারি পত্র (ডিও) পাঠান। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন দেয়। যদিও চলতি অর্থবছরের (২০২৫–২৬) বাজেট নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রমের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনায় অর্থের কোনো সংকট হবে না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ব্যয়ের অর্থ দেওয়া হবে। সে বিবেচনায় বাজেটের বাইরে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বিগত নির্বাচনে যেসব প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহৃত হতে পারে, সেগুলোর অবস্থা যাচাই করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার ও মেরামতের অর্থ চেয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার ডিও পাওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ রয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালন ব্যয়ের আওতায় ‘অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা’ খাতে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ১২৪ কোটি টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং বিষয়টিকে জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র অনুযায়ী, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি) আওতায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দকৃত ৮৩৭ কোটি টাকা এবং ছোটখাটো মেরামত খাতে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার পুরো অর্থ ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে এ খাতগুলোতে কোনো অব্যয়িত অর্থ নেই এবং পিইডিপির আওতায় নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগও নেই। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালন ব্যয়ের আওতায় ‘অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা’ কোডে মাত্র ৮০ কোটি টাকা রয়েছে, যা দিয়ে মোট ১২৪ কোটি টাকার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর উপযোগিতা যাচাই করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৫৩১টি বিদ্যালয়ের সংস্কার ও মেরামত জরুরি। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ উপদেষ্টার কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে আগে মাত্র ৮০ কোটি টাকা ছিল, যা দিয়ে ১২ হাজারের বেশি বিদ্যালয় সংস্কার করা সম্ভব ছিল না। বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ না থাকলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে কারণেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যালয়গুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়।