tanaka
প্রচ্ছদরাজধানী৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, বুলডোজারে প্রকৌশলীর বাড়ি গুঁড়িয়ে লুটপাট

৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, বুলডোজারে প্রকৌশলীর বাড়ি গুঁড়িয়ে লুটপাট

রাজধানীর পল্লবীর বাইগারটেক এলাকায় ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় পৈতৃক ও বৈধভাবে কেনা বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা এবং সেখান থেকে প্রায় ১০ ট্রাক মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রিন্সিপাল মো. লিয়াকত আলী, মাহাবুব আলম শেখ, মো. মানিক ও মো. তুহিনসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় গত বছরের ৩ অক্টোবর তার জমির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করার পাশাপাশি সেনাক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপর ৩০ এপ্রিল রাতে প্রায় ২০০ জনের একটি দল অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাইগারটেকের ওই বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বুলডোজার ব্যবহার করে বসতবাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রায় ১০টি ট্রাকে করে বাড়ি থেকে ইট, লোহা, টিন, অটোরিকশার ব্যাটারিসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। এসব মালামালের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদও ছিল বলে দাবি করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

তিনি জানান, বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়েও কার্যকর সহায়তা পাননি। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মোহাম্মদ আলী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দেওয়ানি আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৮০/২৬ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মোকদ্দমা নং ২০৫/২৬ (ধারা ১৪৫) দায়ের করেছেন। আদালত থেকে সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি মিরপুর বিভাগের ডিসির সহযোগিতায় সাময়িকভাবে ভাঙচুরের কাজ বন্ধ ছিল। তবে গত ৯ সেপ্টেম্বর লিয়াকত আলী ও তার ছেলে গোলাম কাওছারের নেতৃত্বে আবারও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং নতুন করে চাঁদা দাবি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেয়াল ভাঙচুরের বিষয়টি দেখলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা ও চলমান মামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নালিশি সম্পত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ৩০ এপ্রিল ও ৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে কোনো অবহেলা হয়ে থাকলে তা তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধে জড়াতে চান না। সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সেটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই প্রত্যাশিত। এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।