আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে লংমার্চ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় তিনি প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
সভায় জানানো হয়, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলের শীর্ষ নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
দলটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে সকাল ৮টায় লংমার্চ শুরু হবে। মাওয়া সড়ক দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট হয়ে রূপসা সেতু দিয়ে খুলনায় পৌঁছাবে বহর। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের অংশগ্রহণকারীরা।
এ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
যেসব স্থানে হবে পথসভা
লংমার্চের যাত্রাপথে কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায় এবং বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে সকাল ১১টায় পথসভা হবে।
এরপর খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায় এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে বিকেল ৫টায় আরও দুটি পথসভা হবে।
সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
প্রস্তুতি সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ ও মাওলানা আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম সভায় অংশ নেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির এবং সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি শৃঙ্খলা, প্রচার, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাংস্কৃতিক বিভাগের দায়িত্বশীল এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সভায় অংশ নেন।



