পদত্যাগ ইস্যুতে অডিও সাক্ষাৎকারে ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানালেন তিনি
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ শুরু করবেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেছেন, তিনি কারও জমি দখল কিংবা কারও কাছ থেকে চাঁদা নিতে যাননি।
রোববার রাতে প্রবাসী সাংবাদিক নাজমুস সাকিবকে অডিও কলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইশরাক।
গুলির ঘটনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, ঘটনাস্থলে অবস্থান করার সময় ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। এ ছাড়া তাঁরা সেখানে প্রবেশ করার সময় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন বেরিয়ে আসেন। ওই সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। এতে তিনি মনে করেছিলেন, কেউ অস্ত্র বের করছেন। এ কারণে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করেন বলে জানান।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, ‘আমি তো কারও জমি দখল করতে যাইনি, কারও কাছ থেকে চাঁদা নিতে যাইনি। তো সমস্যা কোথায়?’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকায় তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যেন তাঁর কারণে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রেখেছেন।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইশরাক বলেন, রাজধানীর কাঠামো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত নয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনে আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। রাজধানীকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক দাবি করেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক
প্রসঙ্গত, শনিবার গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণে পলিথিনের ছাউনির ঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পরে এক বিবৃতিতে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন ইশরাক। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



