tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদরাজনীতি২৫৩ আসনে জামায়াতসহ ১০ দলের আসন বণ্টন চূড়ান্ত

২৫৩ আসনে জামায়াতসহ ১০ দলের আসন বণ্টন চূড়ান্ত

সমঝোতায় আসেনি ইসলামী আন্দোলন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দিনের বেলা অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে অংশ নেয়নি এবং রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও অনুপস্থিত ছিল। তাদের অনুপস্থিতিতেই ১০ দলের মধ্যে ২৫৩টি আসনের আসন বণ্টনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঘোষণায় এটিকে ‘১১ দলীয় সমঝোতা’ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াতে ইসলামী। বাকি ৯ দলের মধ্যে ৭৪টি আসন বণ্টন করা হয়েছে। এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুক্রবার বেলা ৩টায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গেই আছে। নিজেদের মধ্যে আরও কিছু বোঝাপড়া করছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়ের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই আসন বণ্টনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া জোটভুক্ত অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

২৫৩ আসনের মধ্যে এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, এলডিপিকে ৭টি, নেজামে ইসলাম পার্টিকে ২টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)কে ২টি আসন দেওয়া হয়েছে। খেলাফত আন্দোলন ও জাগপাকে কোনো আসন দেওয়া হয়নি, তবে তারা জোটের সঙ্গে আছে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগে আমরা একে নির্বাচনি সমঝোতা বলেছিলাম, এখন বলছি ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’। আমরা পুরোনো রাজনীতি চাই না—যেখানে মানুষ খুন, চাঁদাবাজি ও জুলুমের শিকার হতো। আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

তিনি ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। জুলাই বিপ্লব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমন্বয় ঘটেছে এই ঐক্যে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, “জাতির কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ উপহার দিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এ কাজে আমরা জনগণের সহযোগিতা চাই।”

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি ১০ দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক শুরু হয়, যা শেষ হয় বেলা পৌনে ৩টার দিকে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। তাদের জন্য আসন নির্ধারণ করেই সমঝোতা করা হয়েছে। আশা করছি, সবাই একসঙ্গেই এগোতে পারব।”

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাদের।

বৈঠক শেষে ডা. তাহের বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের জন্য প্রাপ্য আসন আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” অন্যদিকে জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “আমরা সমঝোতার একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। ইসলামী আন্দোলন পুরোপুরি যুক্ত হয়েছে বা বের হয়ে গেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।”

উল্লেখ্য, বুধবার সমঝোতা ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পরই বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি ১০ দলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।