tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরানে মার্কিন হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তের কূটনীতি: সৌদি কর্মকর্তা

ইরানে মার্কিন হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তের কূটনীতি: সৌদি কর্মকর্তা

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। এই তিন উপসাগরীয় দেশের মধ্যস্থতা ও অনুরোধের পর শেষ পর্যন্ত তেহরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ এড়াতেই তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বিত ও শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয়। তিনি বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যেন তিনি ইরানকে সদিচ্ছা দেখানোর একটি সুযোগ দেন।” একই সঙ্গে তিনি জানান, উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের জেরে কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাণিজ্যিক জাহাজে পাল্টা আঘাত হানবে। এই আশঙ্কায় বুধবার কাতারের প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার করা হয় এবং সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

কয়েক দিন ধরে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও বুধবার হঠাৎ ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘অপর পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরান আপাতত কোনো বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে না। ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে উপসাগরীয় দেশগুলোর দেওয়া তথ্য ও নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা ছিল, ইরানের ওপর সামরিক হামলা হলে পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সৌদি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছি, ইরানে হামলা হলে ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের পথ খুলে যাবে। আরও রক্তপাত ঠেকাতে আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে।”

একই সঙ্গে অন্য এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানান, ইরানকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। তেহরানকে জানানো হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কোনো স্থাপনায় হামলা হলে এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।