জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পৃষ্ঠপোষকেরা অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ক্ষমতা, গদি ও মন্ত্রণালয়ের লোভে যারা দিল্লিকে ‘কেবলা’ বানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা তৃতীয়বারের মতো বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নির্বাচন বানচাল এবং ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের পেছনে ভারতের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। সীমান্তে বাংলাদেশিদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভারতের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে বিশ্বাস করে না এবং দেশের মানুষের ওপর আস্থা রাখে না, তাদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শকুনদের হাত থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আবারও বাংলাদেশের মানচিত্রে থাবা বসানোর চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন মেরুদণ্ডহীন। ওসমান হাদির মৃত্যুকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করাকে তিনি অমানবিক আখ্যা দেন এবং যোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো এক শ্রেণির শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী দলীয় পরিচয়ে সক্রিয় রয়েছে। টকশো, নাটক ও সিনেমার মাধ্যমে সহিংসতা ও হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এসব প্রবণতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
টকশোজীবীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একপেশে আলোচনায় মজলুম মানুষের মানবাধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে।
জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রকাশ্যে এক কথা বলে গোপনে সমঝোতা করে যে ঐক্যের কথা বলা হয়, তা প্রকৃত ঐক্য নয়। আরপিও সংশোধনের পর ফ্যাসিবাদী শক্তির ভিন্ন দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে বলেও তিনি মত দেন।



