দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, বাকি ৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থা না থাকা। আক্রান্ত শিশুরা অন্যদের সংস্পর্শে আসায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের অনেক সময় সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই রাখতে হচ্ছে, যা নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ৯৫৫ জন। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২১৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার কারণে এ প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।



