নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে সংঘর্ষে যুবক শাহ আলমগীর নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহারে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের স্বজনদের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার লেপসিয়া বাজার জামে মসজিদ লঞ্চঘাট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত শাহ আলমগীর (২২) উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সানোয়ার ফকির। নিহতের চাচা ছাদেক আহমদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন শাহ আলমগীরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, বাবা নুরুল হক, চাকুয়া ইউনিয়ন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মিস্টু মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও রোমান ফকির, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লিগেল মিয়া, সদস্য মো. কবীর হোসেন এবং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি কাউসার আহমেদসহ অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়া। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ওই সংঘর্ষ থামে।
এর পরদিন সকালে আবদুর রহমানের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লিগেল মিয়ার চাচাতো ভাই শাহ আলমগীরের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় ফের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খালিয়াজুরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত শাহ আলমগীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তার মৃত্যু হয়।
শাহ আলমগীরের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় মামলা করে। লিগেল মিয়ার পক্ষ থেকে তার চাচাতো ভাই মিস্টু মিয়া বাদী হয়ে আবদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
অন্যদিকে আবদুর রহমানের পক্ষ থেকে তার ছেলে রুবেল মিয়া বাদী হয়ে শাহ আলমগীরের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশ আবদুল জব্বার, আনোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম, আকাশ মিয়া ও রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সবুজ ও নুর আলম ছাড়া বাকিরা আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
রোববারের মানববন্ধনে শাহ আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলার দুই আসামি নুর আলম ও সবুজ এখনো বাইরে রয়েছেন। তাদের পাশাপাশি অন্য আসামিদের স্বজনরাও মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদীপক্ষের লোকজনকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন।
নিহতের বাবা নুরুল হক বলেন, ‘আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলেকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। তবে যারা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’
নিহতের চাচা ছাদেক আহমদও একই অভিযোগ করেন। তার দাবি, আসামি নুর আলমের বাবা ফিরোজ আলী, আসামি মামুনের বাবা হারিস মিয়াসহ অন্য আসামিদের স্বজনরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাদের হুমকি দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ফিরোজ আলীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, হত্যা মামলা প্রত্যাহারে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



