যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো হত্যাচেষ্টা বা হামলার পরিকল্পনা করা হলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না যাওয়ার বার্তা দিয়েছে, ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা হুমকির কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।
উত্তেজনা এমন এক সময়ে বেড়েছে, যখন সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ওয়াশিংটনও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আগের যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি আর কার্যকর নেই।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি দাবি করেন, কোনো সমঝোতা ভেঙে গেলে দেশটি আত্মরক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ওমানে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা এগোবে না।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। কাতারের মধ্যস্থতায় সংকট নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কড়া বক্তব্য চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সূত্র: আল জাজিরা।



