জুলাইয়ে ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছিলেন। এবার কয়েকদিনের ভয়াবহ বিক্ষোভেই পদত্যাগে বাধ্য হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন, যদিও গন্তব্য নিশ্চিত নয়। স্থানীয় গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চিকিৎসার অজুহাতে দুবাই যেতে পারেন। এ উদ্দেশ্যে বেসরকারি বিমানসংস্থা হিমালয়া এয়ারলাইনসকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পদত্যাগের আগে অলি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে ফোনালাপ করেন এবং তার আহ্বানেই সরে দাঁড়ান। পাশাপাশি নিরাপদে দেশ ছাড়ার জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তাও চান তিনি।
এদিকে, দেশজুড়ে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলন সোমবার সহিংস রূপ নেয়। পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত হলে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবনে। এর মধ্যে ছিল সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির বাড়ি, কংগ্রেস নেতা শের বাহাদুর দেউবা ও তার স্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু দেউবা রানার মালিকানাধীন স্কুল, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের বাড়ি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহালের বাসভবন।
ক্ষোভ থেমে থাকেনি কেবল নেতাদের বাড়িতে। সংসদ ভবন ও সিংহদরবার প্রশাসনিক কমপ্লেক্সেও আগুন ধরানো হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বহু দশকের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নেতৃত্বহীনতায় দেশ অচল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়েছে। যদিও মঙ্গলবার সকালে সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তবুও আন্দোলনকারীরা বলছে— কেবল ফেসবুক-ইউটিউব খোলা সমাধান নয়; দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও দায়ীদের জবাবদিহি চাই।
এক ছাত্র, বিষ্ণু থাপা ছেত্রী বলেন, “দেশে দুর্নীতি এত বেড়েছে যে তরুণদের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আমরা শান্তি চাই, দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই, যাতে এখানেই কাজ করে বাঁচতে পারি।”



