tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদঅন্যান্যস্বৈরাচার হাসিনাপুত্র জয়ের ভুল স্বীকার

স্বৈরাচার হাসিনাপুত্র জয়ের ভুল স্বীকার

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে প্রস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় স্বীকার করেছেন, তার মায়ের সরকার কিছু বিষয়ে ভুল করেছিল। তবে তিনি জাতিসংঘের সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে—অভ্যুত্থান দমনে সরকার ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে এপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না দেয়, তাহলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে। তার মতে, “নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জরুরি।”

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটি হবে গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার অবসানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। হাসিনা ভারত যাওয়ার তিন দিন পর ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের অঙ্গীকার করেন। তবে গত মে মাসে সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দলটির অনেক নেতা গ্রেপ্তার হন। কিছু নেতা দেশ ত্যাগ করেন।

ইতিমধ্যে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা বর্তমান সরকারের কাছে আওয়ামী লীগের ওপর ‘অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতাকে সীমিত করছে।

জয় বলেন, “যদি আওয়ামী লীগকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া হয় নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য, তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নে পড়বে।” বর্তমানে দেশে ৫২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর এখনো প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি আসন্ন নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় নিষিদ্ধ থাকার পর জামায়াতে ইসলামীও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। জয় সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে এসব গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

মানবাধিকার ইস্যুতে জয় বলেন, সব ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। তবে তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানকালে সহিংসতায় জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ পরিচালিত হচ্ছে। একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সম্প্রতি হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলা হয়েছে; হাসিনা এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন।

জয় আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা–কর্মী দীর্ঘদিন কারাবন্দি রয়েছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, দলটির শত শত নেতা–কর্মী নিহত হয়েছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও হামলার শিকার হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস