সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের নাজরান প্রদেশে হুথিদের গোলাবর্ষণে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রিয়াদ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর আরও সমন্বিত হামলার আশঙ্কা রয়েছে। খবর সামা টিভি অনলাইনের।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিশরীয় এবং একজন পাকিস্তানি রয়েছেন। আহত চার বছর বয়সী শিশুটি দ্বিতীয় ডিগ্রির দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন নির্বিচারে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
তবে সৌদি আরবের এই অভিযোগের বিষয়ে হুথি গোষ্ঠী বা ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আরও হামলার আশঙ্কা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে বিনিময় করা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হুথি বিদ্রোহী এবং ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা শিগগিরই সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতে সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দর রয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করতেই এমন হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ
নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শুক্রবার রিয়াদে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যদিও চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের আগে থেকেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও শুক্রবার রিয়াদ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছেই
হুথিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল, যা ইরানকে ঘিরে চলমান বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সম্প্রতি হুথিরা নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া তারা সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং নৌপথ লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।



