সূর্যের বুকে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর তৈরি হয়েছে বিশাল এক গহ্বর। এ ঘটনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে মহাকাশ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পৃথিবীমুখী সক্রিয় সানস্পট অঞ্চল ‘এআর৪৪৩৬’কে কেন্দ্র করে বাড়ছে প্রলয়ঙ্করী সৌরঝড়ের আশঙ্কা।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ফলে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া চার্জযুক্ত সৌর কণাগুলো পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ সৌরঝড়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গত ১০ মে ইউটিসি সময় ১৩:৩৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩৯ মিনিটে) সূর্যের এআর৪৪৩৬ সানস্পট অঞ্চল থেকে এম৫.৭ শ্রেণির শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণের ফলে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে বিশাল গহ্বর সৃষ্টি হয়। নাসার সোলার ডাইনামিকস অবজারভেটরি (এসডিও) ধারণ করা অতিবেগুনি চিত্রে সেই গহ্বর স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
এই বিস্ফোরণের সঙ্গে মহাকাশে ছিটকে যায় করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই) নামে পরিচিত বিশাল চৌম্বকীয় প্লাজমা মেঘ। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সিএমইয়ের মূল অংশ পৃথিবীকে অল্পের জন্য এড়িয়ে যেতে পারে। তবে ১৩ মে পৃথিবীর পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় এর প্রভাবে সামান্য ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সোলার অ্যান্ড হেলিওস্ফেরিক অবজারভেটরির তথ্যভিত্তিক মডেল অনুযায়ী, সিএমইয়ের মূল ধাক্কা পৃথিবীতে না লাগলেও এর চার্জযুক্ত আন্তঃগ্রহীয় গ্যাস তরঙ্গ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র স্পর্শ করতে পারে। এতে বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বড় ধরনের সৌরঝড়ের সম্ভাবনা কম হলেও এআর৪৪৩৬ অঞ্চলটি অত্যন্ত সক্রিয় ও অস্থিতিশীল। গত সপ্তাহেও সূর্যের উল্টো পাশে অবস্থান করেই এই অঞ্চল থেকে অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য সিএমই তৈরি হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অঞ্চলটিতে জটিল চৌম্বকীয় অস্থিরতা বিদ্যমান রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনে সূর্যের ঘূর্ণনের কারণে এআর৪৪৩৬ আরও সরাসরি পৃথিবীমুখী অবস্থানে চলে আসবে। ফলে পৃথিবীর দিকে নতুন সৌর বিস্ফোরণ বা সিএমই আঘাত হানার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌর বিস্ফোরণ বা সোলার ফ্লেয়ার হলো সূর্যের চৌম্বকীয় শক্তির আকস্মিক নিঃসরণ থেকে সৃষ্ট তীব্র তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ। অন্যদিকে সিএমই তুলনামূলক ধীরগতির হলেও এর প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। পৃথিবীমুখী শক্তিশালী সিএমই উপগ্রহ, জিপিএস, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে সক্ষম।
বর্তমানে সূর্য ‘সোলার সাইকেল ২৫’-এর সর্বোচ্চ সক্রিয় পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এ সময়ে সূর্যে চৌম্বকীয় তৎপরতা ও বিস্ফোরণের হার স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। গত এক বছরে কয়েকটি শক্তিশালী সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর তুলনামূলক নিচু অক্ষাংশেও দৃষ্টিনন্দন অরোরা দেখা গেছে। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলে সাময়িক যোগাযোগ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে।
এখন বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ আবহাওয়া সংস্থা এআর৪৪৩৬ অঞ্চলটির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, অঞ্চলটি একইভাবে সক্রিয় থাকলে সামনে আরও শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



