২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেক বিশ্বকাপে ফাইনালের পর হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে পারেদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। পাশাপাশি তাকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচ মনে করেন, পারেদেসের শাস্তি তার অপরাধের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে নিষেধাজ্ঞা কমানোর চেষ্টা করবে এএফএ।
ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেন, ২০১৪ সালে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেওয়ার পরও সুয়ারেজ ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। অথচ পারেদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তির নজির রয়েছে।
শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, আরও একটি নজিরের কথাও উল্লেখ করেছেন উরিচ। তার দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনায় ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এএফএর মতে, অতীতের এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করলে পারেদেসের শাস্তির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
উরিচ বলেন, এএফএ ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তাদের ধারণা ছিল, পারেদেস ও নাহুয়েল মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরও কম হওয়া উচিত ছিল।
মলিনা ও আয়ালারও শাস্তি
পারেদেসের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাকে ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা।
ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর বিষয়টিকেই আপাতত অগ্রাধিকার দিচ্ছে এএফএ।
আপিল, প্রয়োজনে সিএএসে যাওয়ার প্রস্তুতি
এএফএ প্রথমে ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি তুলে ধরে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনেও শাস্তি বহাল থাকলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।
এ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সামনে পুরোনো একটি নজিরও রয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়।
সেই নজিরকে সামনে রেখে পারেদেস ও মলিনার শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে তাদের মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় সুয়ারেজ যেখানে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?



