ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্যসচিব ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।
কী ঘটেছিল
পরিবারের অভিযোগ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির কনিকা মন্ডল (৩৬) প্রসবব্যথা নিয়ে গত ২৯ জুন ফরিদপুর শহরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয় এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে বড় একটি সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তাঁর পেট ফুলতে শুরু করে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তাঁরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
কনিকা মন্ডল স্বামী অশান্ত মন্ডল, দুই ছেলে ও দেড় মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
তদন্তের পরই দায় নির্ধারণ
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।



