ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনটি হয়ে থাকল রেকর্ডময়। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ও বাংলাদেশের শরীফুল ইসলাম বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। দুজনেই নিয়েছেন ৬টি করে উইকেট। আর এই কীর্তির মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একাধিক রেকর্ডও হয়েছে।
একই দিনে দুই বোলারের ৬ উইকেট
মিচেল স্টার্ক ১২ রানে ৬ উইকেট এবং শরীফুল ইসলাম ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। টেস্টের প্রথম দিনেই দুই দলের দুই বোলারের ৬ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার।
এর আগে ১৯০২ সালে মেলবোর্নে সিডনি বার্নস ও মন্টি নোবল, ১৯০৭ সালে লিডসে অব্রে ফকনার ও কলিন ব্লাইথ এবং ১৯৫১ সালে অ্যাডিলেডে ফ্র্যাঙ্ক ওরেল ও বিল জনস্টন একই দিনে ৬ উইকেট করে নিয়েছিলেন।
প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার রেকর্ড স্টার্কের
টেস্টে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার ঘটনা স্টার্কের ক্যারিয়ারে এখন চারটি। পেদ্রো কলিন্সকে ছাড়িয়ে এই তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন তিনি। কলিন্স তিনবার টেস্টের প্রথম বলে উইকেট নিয়েছিলেন এবং প্রতিবারই বাংলাদেশের ওপেনার হান্নান সরকার ছিলেন তাঁর শিকার।
টেস্টের যেকোনো ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে স্টার্কের সংখ্যা এখন পাঁচ। তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট আছে শুধু নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলির—ছয়টি।
২২ বলেই ফাইফার
ম্যাকাই টেস্টে মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছেন স্টার্ক। টেস্ট ইতিহাসে বলসংখ্যার হিসাবে এটি ষষ্ঠ দ্রুততম ফাইফার।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড গড়েছিলেন স্টার্ক।
শরীফুলেরও দ্রুততমদের তালিকায় জায়গা
শরীফুল ইসলাম ৮.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। বাংলাদেশের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৬.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।
প্রথম ওভারেও স্টার্কের দাপট
টেস্টে নিজের প্রথম ওভারে স্টার্কের উইকেটসংখ্যা এখন ২৮। এই তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন জেমস অ্যান্ডারসন, যাঁর প্রথম ওভারে উইকেট ২৯টি।
তবে টেস্ট ম্যাচের একেবারে প্রথম ওভারে স্টার্কের উইকেট ৯টি—যা এই তালিকায় সর্বোচ্চ।
৬.৪ ওভারেই পাঁচ উইকেট
ম্যাকাইয়ে টেস্ট শুরুর মাত্র ৬.৪ ওভারের মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। টেস্টে এর চেয়ে দ্রুত ফাইফার হয়েছে মাত্র একবার। ২০১৫ সালে নটিংহামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬.১ ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রড।
এক ইনিংসে ওভারের হিসাবে এটি তৃতীয় দ্রুততম পাঁচ উইকেট। দ্রুততম ৪.৩ ওভারে ফাইফারের রেকর্ডও স্টার্কের, গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
আট দলের বিপক্ষেই ফাইফার
টেস্টে যে আট দলের বিপক্ষে খেলেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিপক্ষেই অন্তত একবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন ও নাথান লায়নেরও আট দলের বিপক্ষে ফাইফারের কীর্তি রয়েছে।
এ ছাড়া সাতটি দলের বিপক্ষে এক ইনিংসে ছয় বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। তাঁর চেয়ে বেশি বা সমান এই কীর্তি রয়েছে পাঁচ স্পিনারের—মুত্তিয়া মুরালিধরন ও রঙ্গনা হেরাথ ৯টি করে, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৭টি করে।
বাংলাদেশের প্রথম ছয়ের চারজনই শূন্য
বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের চারজনই কোনো রান করতে পারেননি। চারজনকেই সাজঘরে ফেরান স্টার্ক।
টেস্টে একই ইনিংসে প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের চারজনকে শূন্য রানে আউট করার ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে গত মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের পেসার নাথান স্মিথ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন
ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে মাত্র ৬৪ রানে। টেস্টে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রান এখন তৃতীয় সর্বনিম্ন। এর চেয়ে কম রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা—১৯৩২ সালে মেলবোর্নে ৩৬ রান এবং ইংল্যান্ড—১৮৮৭ সালে সিডনিতে ৪৫ রান।
ম্যাকাইয়ের ভেন্যুর প্রথম টেস্ট ইনিংস হিসেবেও বাংলাদেশের ৬৪ রান সর্বনিম্ন। এর আগে কোনো ভেন্যুর প্রথম টেস্ট ইনিংসে সর্বনিম্ন ছিল ৮৪ রান—১৮৮৯ সালে গাবেখার সেন্ট জর্জেস পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার।
প্রথম বলেই উইকেট
ম্যাকাইয়ের ইতিহাসের প্রথম টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট পড়েছে। এর আগে জলন্ধর, জয়পুর ও পাল্লেকেলেতে কোনো ভেন্যুর প্রথম টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট পড়ার ঘটনা ঘটেছিল।
১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ রান শরীফুলের
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেছেন ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা শরীফুল ইসলাম—১৪ রান।
টেস্টে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার ঘটনা এটি ১৩তম। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয়বার। এর আগে ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ১৪ রান করে ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন তালহা জুবায়ের, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের বোলিং কোচ।
১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান হিসেবে ১৪ রানই যৌথভাবে সর্বনিম্ন। ২০১১ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৪৭ রানের ইনিংসেও ১৪ রান করে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন নাথান লায়ন।



