tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ অস্থিরতা, নানা ইস্যুতে উত্তেজনা

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ অস্থিরতা, নানা ইস্যুতে উত্তেজনা

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে পতন ঘটে আওয়ামী সরকারের। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও শিক্ষাঙ্গন বারবার আলোচনায় থেকেছে। গত এক বছরে অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন, আড়াই হাজার শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সংঘর্ষ, অবরোধ ও শিক্ষকদের অপমান ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রভাব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়েছে।

এ সময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২৬টি সংঘর্ষ, নয়টি আন্দোলন ও তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ে প্রবেশ করে এইচএসসি পরীক্ষার ছয়টি বিষয় স্থগিত করিয়ে অটোপাস আদায় করে—যা ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। তার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও শিক্ষার্থীরা অটোপাস দাবি করছে, যদিও সরকার তাতে সায় দেয়নি।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানদের পদত্যাগে চাপ, পদত্যাগে অস্বীকৃতদের ওপর নির্যাতন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সত্ত্বেও এসব চলতে থাকে। এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং অনেক শিক্ষক এখনো কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা

গত এক সপ্তাহে অন্তত সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ ১৮০ শিক্ষার্থী আহত হন; জারি হয় ১৪৪ ধারা, স্থগিত করা হয় ক্লাস-পরীক্ষা।
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: রাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা।
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: জমি অধিগ্রহণ ও পরিবহন সংস্কার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম, সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি।
  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ ও শিক্ষকদের অবরুদ্ধ রাখা।
  • বুয়েট: সর্বাত্মক শাটডাউন, প্রকৌশলীদের আন্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ।
  • অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সংঘর্ষ, অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছেই।

এ ছাড়া ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, কুয়েট, বুটেক্সসহ বহু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ ঘটছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন

বেতন বৈষম্য নিরসন, এমপিওভুক্তি, জাতীয়করণ, বদলি নীতিমালা ও পেনশন স্কিমসহ নানা দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে অনশন, কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি, এমনকি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মনে করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় হতাশা বাড়ছে। সরকার ও রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যতটা মনোযোগী, শিক্ষাখাতে তার প্রতিফলন নেই।

অন্যদিকে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় পরিবর্তন আশা করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তারা ক্ষোভ ও হতাশায় বারবার আন্দোলনে নামছে।